ভারতে গৃহীত যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যগুলির মধ্যে কর্তৃত্বের বিভাজন জড়িত। তিন ধরনের সম্পর্কের ভিত্তিতে কেন্দ্র ও রাজ্য গুলির মধ্যে ক্ষমতা বন্টন করা আছে। ভারতের সংবিধানের ১১ নং অংশে ২৪৫-২৫৫ নং ধারায় কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির মধ্যে আইনগত সম্পর্কগুলির সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে:
২৪৫ নং ধারা: কেন্দ্রীয় আইনসভা (পার্লামেন্ট) ও রাজ্য আইনসভা প্রণীত আইনের বিস্তার।২৪৬ (১) নং ধারা: কেন্দ্রীয় তালিকা (Union List)—
মূল সংবিধানে ৯৭ টি বিষয় ছিল, বর্তমানে রয়েছে ৯৮ টি। জাতীয় স্বার্থে জড়িত বিষয়ে কেবলমাত্র পার্লামেন্টই আইন প্রণয়ন করতে পারবে।
যথা:— প্রতিরক্ষা, বিদেশ, রেল, ডাক ও তার, মুদ্রা ব্যবস্থা, বীমা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, যুদ্ধ ও শান্তি, পারমানবিক শক্তি, নাগরিকতা, লোকগণনা প্রভৃতি।
২৪৬ (২) নং ধারা: যুগ্ম তালিকা (Concurrent List) —
যথা:— প্রতিরক্ষা, বিদেশ, রেল, ডাক ও তার, মুদ্রা ব্যবস্থা, বীমা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, যুদ্ধ ও শান্তি, পারমানবিক শক্তি, নাগরিকতা, লোকগণনা প্রভৃতি।
২৪৬ (২) নং ধারা: যুগ্ম তালিকা (Concurrent List) —
মূল সংবিধানে এই তালিকায় ৪৭ টি বিষয় ছিল, বর্তমানে রয়েছে — ৫২ টি। যুগ্মতালিকাভুক্ত বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়কে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তবে কেন্দ্রীয় আইনসভার ক্ষমতা সেক্ষেত্রেও প্রাধান্য পায়।
যথা:— বিবাহ, দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিকল্পনা, বিদ্যুৎ, সংবাদপত্র, শ্রমিক কল্যাণ, শ্রমিকসংগঠন, শিক্ষা, পুস্তক ও প্রেস, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ।
২৪৬ (৩) নং ধারা: রাজ্য তালিকা (State List)-
যথা:— বিবাহ, দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিকল্পনা, বিদ্যুৎ, সংবাদপত্র, শ্রমিক কল্যাণ, শ্রমিকসংগঠন, শিক্ষা, পুস্তক ও প্রেস, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ।
২৪৬ (৩) নং ধারা: রাজ্য তালিকা (State List)-
মূল সংবিধানে রাজ্যতালিকায় ৬৬ টি বিষয় ছিল, বর্তমানে রয়েছে ৫৯ টি। সাধারণভাবে এক্ষেত্রে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যের আইনসভার হাতে ন্যস্ত।
যথা:— পুলিশ, আইন-শৃঙ্খলা, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব, জনস্বাস্থ্য, স্বায়ত্তশাসন, পূর্ত, জলসরবরাহ, রাস্তাঘাট, কৃষি, মৎস্য চাষ প্রভৃতি।
২৪৮ (১) নং ধারা: তিনটি তালিকা বহির্ভুত যাবতীয় অবশিষ্ট ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত। (Residuary Powers of Legislation)।
২৪৯ নং ধারা: জাতীয় স্বার্থে রাজ্য তালিকাভুক্ত কোনো বিষয়ে পার্লামেন্টের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা।
২৫০ নং ধারা: জরুরী অবস্থাকালীন রাজ্যতালিকাভুক্ত বিষয়ে পার্লামেন্টের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা।
২৫১ নং ধারা: ২৪৯ ও ২৫০ ধারা বলে পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের সঙ্গে রাজ্যতালিকাভুক্ত আইনের বিরোধ বাঁধলে শেষোক্তটি বাতিল হবে।
২৫২ নং ধারা: দুই বা ততোধিক রাজ্যের অনুরোধে পার্লামেন্ট রাজ্যতালিকাভুক্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে আইনটি কেবলমাত্র ইচ্ছুক রাজ্যগুলিতে প্রচলিত হবে। তবে অন্যান্য রাজ্যও ইচ্ছা করলে আইনটি প্রচলন করতে পারে।
২৫৩ নং ধারা: আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সন্ধি অনুযায়ী প্রস্তাব কার্যকর করতে পার্লামেন্ট রাজ্যতালিকাভুক্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারে।
২৫৪ নং ধারা: যুগ্ম তালিকাভুক্ত বিষয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য আইনসভাগুলি যৌথভাবে আইন প্রণয়নের অধিকারী হলেও কেন্দ্রের আইনের সঙ্গে রাজ্যের আইনের বিরোধের ক্ষেত্রে শেষোক্ত আইন যতদূর পর্যন্ত প্রথমোক্ত আইনের বিরোধী বলে বিবেচিত হবে, ততদূর পর্যন্ত বাতিল হয়ে যাবে। অবশ্য রাজ্য - আইনসভা প্রণীত কোনো আইন যদি রাষ্ট্রপতির বিচারবিবেচনার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয় এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতিলাভ করে, তাহলে সেক্ষেত্রে রাজ্যের আইন বলবৎ থাকবে। তবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুমোদিত বা সম্মতিপ্রাপ্ত কোনো আইনকে পার্লামেন্ট সংশোধন বা প্রত্যাহার করে নিতে পারে।
যথা:— পুলিশ, আইন-শৃঙ্খলা, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব, জনস্বাস্থ্য, স্বায়ত্তশাসন, পূর্ত, জলসরবরাহ, রাস্তাঘাট, কৃষি, মৎস্য চাষ প্রভৃতি।
২৪৮ (১) নং ধারা: তিনটি তালিকা বহির্ভুত যাবতীয় অবশিষ্ট ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত। (Residuary Powers of Legislation)।
২৪৯ নং ধারা: জাতীয় স্বার্থে রাজ্য তালিকাভুক্ত কোনো বিষয়ে পার্লামেন্টের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা।
২৫০ নং ধারা: জরুরী অবস্থাকালীন রাজ্যতালিকাভুক্ত বিষয়ে পার্লামেন্টের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা।
২৫১ নং ধারা: ২৪৯ ও ২৫০ ধারা বলে পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের সঙ্গে রাজ্যতালিকাভুক্ত আইনের বিরোধ বাঁধলে শেষোক্তটি বাতিল হবে।
২৫২ নং ধারা: দুই বা ততোধিক রাজ্যের অনুরোধে পার্লামেন্ট রাজ্যতালিকাভুক্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে আইনটি কেবলমাত্র ইচ্ছুক রাজ্যগুলিতে প্রচলিত হবে। তবে অন্যান্য রাজ্যও ইচ্ছা করলে আইনটি প্রচলন করতে পারে।
২৫৩ নং ধারা: আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সন্ধি অনুযায়ী প্রস্তাব কার্যকর করতে পার্লামেন্ট রাজ্যতালিকাভুক্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারে।
২৫৪ নং ধারা: যুগ্ম তালিকাভুক্ত বিষয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য আইনসভাগুলি যৌথভাবে আইন প্রণয়নের অধিকারী হলেও কেন্দ্রের আইনের সঙ্গে রাজ্যের আইনের বিরোধের ক্ষেত্রে শেষোক্ত আইন যতদূর পর্যন্ত প্রথমোক্ত আইনের বিরোধী বলে বিবেচিত হবে, ততদূর পর্যন্ত বাতিল হয়ে যাবে। অবশ্য রাজ্য - আইনসভা প্রণীত কোনো আইন যদি রাষ্ট্রপতির বিচারবিবেচনার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয় এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতিলাভ করে, তাহলে সেক্ষেত্রে রাজ্যের আইন বলবৎ থাকবে। তবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুমোদিত বা সম্মতিপ্রাপ্ত কোনো আইনকে পার্লামেন্ট সংশোধন বা প্রত্যাহার করে নিতে পারে।
0 মন্তব্যসমূহ